ভারতে শিল্প জীবনেরই সমার্থক, লিখিত ইতিহাস প্রচলিত হওয়ার বহু আগে থেকেই এই সাংস্কৃতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় ভূমিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন অস্তিত্বের সঙ্গে তা জড়িয়ে আছে। এই ভূমিতে জন্মানো মানুষ নিজেদের গল্প, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও সম্মিলিত অতীত লিপিবদ্ধ করার জন্য, এবং একই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ জিনিসপত্রকে অলংকৃত ও সুন্দর করার জন্য লেখা ছাড়াও নিজেদের প্রকাশের নানা উপায় গড়ে তুলেছিল। ভারতে শিল্প সৃষ্টির উপকরণের পরিসর মাটি থেকে ধাতু পর্যন্ত বিস্তৃত; প্রতিটি মাধ্যম এমন এক স্বতন্ত্র, স্থানবিশেষ-নির্ভর কৌশলে ব্যবহৃত হয়, যা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের প্রতিভা ও প্রয়োজনকে সর্বোত্তমভাবে প্রকাশ করার জন্য বিকশিত হয়েছে। সহস্রাব্দ ধরে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এক গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে শিল্পের বিকাশ ঘটেছে, যেখানে রাজার জন্য জ্ঞানের সর্বোচ্চ মান নির্ধারিত ছিল। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রাজার কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল যে তিনি চৌষট্টি কলা (শিল্প ও দক্ষতা) সম্পর্কে জানবেন ও সেগুলির সমালোচনামূলক বিচার করতে পারবেন, এবং প্রায়ই তিনি নিজেও একজন শিল্পী ছিলেন।

ভারতে জীবনের অংশ হিসেবে শিল্প
ভারতে জীবনের অংশ হিসেবে শিল্প

কৌশল ও প্রকাশভঙ্গির যে বৈচিত্র্য ভারত ও তার মানুষের রয়েছে, অন্য কোনো দেশের তা নেই। পুরুষানুক্রমে ওস্তাদ কারিগরদের হাত ধরে চলে আসা প্রথাগত “কারুশিল্প”-এর কৌশল আজও টিকে আছে, আর সেই মাধ্যমগুলির মধ্য দিয়ে শিল্প, অর্থাৎ প্রকাশ, বদলে যাওয়া সময়ের সঙ্গে ক্রমাগত বিবর্তিত হচ্ছে ও নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। টিকে থাকার এক অদম্য দৃঢ়তায় এই প্রথাগত “কারুশিল্প” সেইসব সমকালীন শিল্পীর কণ্ঠ ও প্রকাশেও স্থান করে নিয়েছে, যাঁরা পাশ্চাত্যের ঐতিহ্য অনুসরণ করে ছবি আঁকেন ও ভাস্কর্য গড়েন।

ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও সমকালীন শিল্প
ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও সমকালীন শিল্প

ভারতের প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব শিল্প, কারুশিল্প ও সাহিত্য রয়েছে, যা স্থানীয় পরিস্থিতি, উপকরণ, আগ্রহ ও…

ভারতের প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব শিল্প, কারুশিল্প ও সাহিত্য রয়েছে, যা স্থানীয় পরিস্থিতি, উপকরণ, আগ্রহ ও পৃষ্ঠপোষকদের দ্বারা প্রভাবিত। শিল্পী ও কারিগরদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন শাসক ও বণিকরা। তাঁরা এমন এক ব্যবস্থা অনুসরণ করতেন, যেখানে শিল্প যাঁরা চাইতেন তাঁরা শিল্পীরা যেখানে থাকতেন সেখানেই যেতেন। শিল্পীরা মূলত গ্রামাঞ্চলে বাস করতেন বলে ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ গ্রামীণ ভারতে শিল্প দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে আছে।

প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব শিল্প
প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব শিল্প

শিল্পীরা ধাতু (সোনা, রুপো, তামা, পিতল, দস্তা), কাপড় (তুলো, রেশম, উল), প্রাণীজ উপকরণ (চামড়া, হাড়), উদ্ভিজ্জ উপকরণ (কাঠের মণ্ডের কাগজ, পাতা, কাঠ), পাথর (গ্রানাইট, মার্বেল, বেলেপাথর, চুনাপাথর) ইত্যাদিতে কাজ করেন, মূলত স্থানীয়ভাবে যা পাওয়া যায় তার ভিত্তিতে। চিত্রাঙ্কন, ভাস্কর্য, খোদাই, বয়ন, ছাপা ও সেলাই ভারতের বিচিত্র শিল্প ও কারুশিল্পের কয়েকটি উদাহরণ মাত্র।

স্থানীয় উপকরণে গড়া নানা কারুশিল্প
স্থানীয় উপকরণে গড়া নানা কারুশিল্প